মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোহারে প্রকাশ্যেই তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল 

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৩ এএম আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ এএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

ঢাকার দোহার উপজেলায় প্রায় ছোটবড় শতাধিক কারখানায় অবাধে তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল। প্রকাশ্যে পরিবহনসহ ধুমছে চলছে বাজারজাতকরণ। ছোটখাটো অভিযান পরিচালনা হলেও স্থায়ীভাবে এসব কারখানা বন্ধে প্রশাসনকে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। এসব জাল ছড়িয়ে পড়ায় বিপন্ন হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১০০টির মতো ছোটবড় আকৃতির জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার জাল তৈরি করে চলন বিলাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকার ৫০টি বাড়িতেও জাল তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে। এসব কারখানায় প্রচুর পরিমাণে তৈরি হচ্ছে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল।

ইসমাইল এগ্রো অ্যান্ড ফিশিং কারখানা মালিক নিলু শেখ, মুক্তার হোসেন নেটঘরের মালিক মুক্তার ও তার ম্যানেজার জয় বলেন, আমাদের তৈরিকৃত জাল সারাদেশে যায়। ইসমাইল নেট বাহিরেও রপ্তানি করা হয়। আমার কারখানায় কয়েক শতাধিক লোক চায়না দুয়ারি জাল তৈরির কাজ করে। কারখানা চালানোয় আমাদের তেমন সমস্যা হয় না। আমাদের মৎস্য কর্মকর্তা কাছে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তিনি আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। সবকিছু তাকে জিজ্ঞেস করেন বিস্তারিত বলতে পারবে। তবে চেষ্টা করেও চায়না দুয়ারি জাল তৈরি মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা মুন্নী জানান, প্রশাসনের সহায়তায় এসব কারখানাগুলোতে মাঝে মাঝেই অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু দোহারে সবগুলো কারখানা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না, একটি কারাখানারও অনুমোদন নেই। তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে কারখানা মালিকদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এসব কারখানা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তাছাড়া কারখানার কিছু কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা আদালতে একটি রিট করেছেন। সেটি বিবেচনায় রেখেও যতটুকু সম্ভব আমরা মাঝে মাঝেই অভিযান চালাচ্ছি।

এদিকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, চায়না দুয়ারি জাল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব জাল তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০ এর মতে, চায়না দুয়ারি জাল তৈরি, সংরক্ষণ, আমদানি-রপ্তানি, বাজারজাতকরণ ও বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তবে এসবের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে চলছে এ জাল তৈরি, রপ্তানি, বাজারজাতকরণ ও বহন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য চায়না দুয়ারি জাল কারেন্ট জালের চেয়েও ক্ষতিকর। এ জাল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে মাছ আটকে রাখতে সক্ষম। জালের বুননে এক গিঁট থেকে আরেক গিঁটের দূরত্ব খুব কম হওয়ায় মাছ বা অন্য কোনো ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী একবার এ জালের মধ্যে প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। অন্য জালের চেয়ে কম পরিশ্রমে চায়না দুয়ারি জালে অধিক পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় বলে মৎস্য শিকারিরা এ জাল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করছেন অবাধে। এতে করে দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। দেখা দিচ্ছে সংকট। তাই দ্রুতই এসব অবৈধ জাল উৎপাদন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ সচেতন মহলের।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন