মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি: সালাহউদ্দিন আম্মার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নারী শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা সংঘর্ষের পর আলোচনায় এসেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মন্তব্য। সংঘর্ষের পর তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রচার করছে আমরা মার খেয়েছি বা আহত হয়েছি। কিন্তু আমরা মাইর খাইনি, মাইর দিয়েছি। প্রশাসনের হাতে আইন তুলে দিয়ে কোনো লাভ হয়নি।’

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ থেকে। তিনি দাবি করেন, একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগের পর রোববার রাতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সোমবার এ বিষয়ে আবার বৈঠক হয়। বৈঠকে রাকসুর নেতারা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন এবং তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। এরপর প্রক্টর দপ্তরে আনাসকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান।

এর কিছু সময় পর বিকেলে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রাকসুর দাবি, ওই ঘটনায় তাদের জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন।

পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। এরপর রাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী পাঠকক্ষে ঢুকে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাধা দিতে গেলে পাঠকক্ষে থাকা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের মধ্যে মাহমুদুল হাসানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাকে আবার মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।

ঘটনার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

অভিযুক্ত আনাস দাবি করেন, তাকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে প্রক্টর দপ্তরে এবং পরে গ্রন্থাগারেও মারধর করা হয়েছে। তবে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তার ছবি থাকলেও তিনি কখনো সংগঠনটির কর্মী ছিলেন না বা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না। তবে হামলার ভিডিওতে শিবিরের নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংঘর্ষের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি রাকসু কার্যালয়ে এসে হামলা চালান। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাকসুর এক সম্পাদক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের ওপর আকস্মিক হামলা হয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের মতো শিক্ষাঙ্গণে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন