শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষার নিস্তব্ধতা ভেঙে পর্যটকের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার

শাহীন মাহমুদ রাসেল
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
expand

কয়েক মাসের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে আবারও পর্যটকের পদচারণায় সরব হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়। দিগন্তে ধূসর মেঘের আস্তরণ, তার ফাঁক গলে এক টুকরো সোনালি আলো এসে পড়েছে ঢেউয়ের চূড়ায়। কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে আনন্দে মেতেছেন, কেউ বালুচরে বসে উপভোগ করেছেন ঢেউ আর বিকেলের বাতাস।

বিকেলের দিকে আকাশে ছিল মেঘ ও রোদের খেলা। মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়ছিল সমুদ্রের ঢেউয়ে। আবহাওয়ার এমন মনোরম পরিস্থিতি সৈকতে থাকা পর্যটকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।

কয়েক মাস আগেও বর্ষার দাপটে সৈকত ছিল প্রায় শূন্য। আকাশ কালো করে নামা বৃষ্টি আর উত্তাল সমুদ্র ভয় দেখিয়েছিল পর্যটকদের। কিন্তু আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হতেই আবার ফিরতে শুরু করেছে সেই চিরচেনা ভিড়। পর্যটন ব্যবসায়ীদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে এসেছেন সিফাত মজুমদার। তিনি বলেন, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই হুট করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চলে এলাম। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত খুবই সুন্দর একটা দিন পার করলাম।

সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ-তরুণীর একটি দল হইহুল্লোড় করে ঢেউয়ের দিকে ছুটে যাচ্ছিল। হাতে মোবাইল ফোন উঁচিয়ে একে অপরের ছবি তুলছিলেন কেউ কেউ, আবার কেউ ঢেউয়ের ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে হাসিতে ফেটে পড়ছিলেন। বন্ধুত্বের এই আড্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার-বিরতি কাটানোর আনন্দ স্পষ্ট ফুটে উঠছিল তাদের চোখেমুখে।

লাবণী পয়েন্টে ছিল ভিন্ন চিত্র। বালুচরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসেছিলেন অনেক পর্যটক। শিশুরা পানির কাছাকাছি খেললেও তাদের ওপর সতর্ক নজর রাখছিলেন অভিভাবকেরা। কেউ খাবার খাচ্ছিলেন, কেউ আবার ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করছিলেন।

কলাতলী পয়েন্টে সন্ধ্যার আগে দেখা যায়, হাত ধরাধরি করে হাঁটছিল সদ্যবিবাহিত এক যুগল। ঢেউয়ের গর্জনের মাঝেও তাদের চারপাশে যেন এক নিজস্ব নীরবতা তৈরি হয়েছিল। মাঝে মাঝে থেমে দুজনে মিলে ছবি তুলছিলেন, কখনো বা শুধু তাকিয়ে থাকছিলেন অস্তগামী সূর্যের দিকে মধুচন্দ্রিমার প্রথম বিকেলটা তাদের কাছে হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়।

অভিউজ্জামান নামের এক পর্যটকের কথায় ফুটে ওঠে নাগরিক ক্লান্তি থেকে মুক্তির এক আকুতি, যা শুধু তার একার নয়, সৈকতে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটি মুখেই যেন প্রতিফলিত।

তবে এই আনন্দমুখর পরিবেশের আড়ালেই সজাগ থাকতে হয় কিছু মানুষকে। ঢেউয়ের তীব্রতা বিবেচনায় সৈকতে ওড়ে লাল পতাকা- সতর্কতার প্রতীক।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, ‘আমরা লাইফগার্ড সদস্যরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। সাগরের ঢেউ থাকায় লাল পতাকা উড়িয়ে সমুদ্রস্নানে সতর্ক করা হচ্ছে। অনেকে মানছেন, অনেকে মানছেন না। এর পরও সৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টে সজাগ রয়েছি।’

নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি ঠেকাতেও মাঠে রয়েছে প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটন শিল্পের ভালো ব্যবস্থাপনা সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা নজরদারি করছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।’

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সবার সচেতনতা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, সাগর ডাকছে, মানুষও ফিরছে। শুধু সেই ফেরাটা যেন নিরাপদ ও দায়িত্বশীল হয়, এটুকুই এখন প্রত্যাশা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank