

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারে করে তিনি মাতারবাড়িতে পৌঁছান।
মাতারবাড়িতে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মাতারবাড়িতে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি, বর্তমান অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এক দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় যাবেন এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মহেশখালী
প্রধানমন্ত্রীর সফর শুরু হয় রোববার সকালে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারটি মাতারবাড়িতে অবতরণ করে। মহেশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কর্মসূচি ছিল মাতারবাড়ির বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন। দেশের জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এই এলাকায় একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
মহেশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন তিনি।
এরপর সড়কপথে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টার দিকে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন হাটহাজারীতে। বেলা সোয়া ৩টার দিকে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে তার। এরপর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রাবিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দিনের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরে যাবেন। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেলের মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঢাকা থেকে মহেশখালী পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে যাবেন। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে যাবেন তিনি।
দিনের সব কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এক দিনের এই সফরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে।