

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে জুমার নামাজ পড়ে ঘরে ফেরা বৃদ্ধ পিতা ইব্রাহিম খলিলকে (৭০) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
নিহত বৃদ্ধের বড় ছেলে মোঃ ছাদেক মিয়া বাদী হয়ে ঘাতক ছোট ভাই মোঃ মিনার (২৭)-কে একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি করে চকরিয়া থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়া ঘাতক মিনারকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একই সাথে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত। মামলার এজাহার নামীয় একমাত্র আসামি মিনারকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘটনার মূল রহস্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্য জানতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী মৌলভীর কুম বাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলের ছোট ছেলে মিনার দীর্ঘদিন ধরেই উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির ছিল। সে প্রায়ই পারিবারিক নিয়মকানুন অমান্য করে পিতার সাথে ঝগড়া-বিবাদ এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিত।
শুক্রবার (২২ মে ) দুপুর আনুমানিক ২টায় ইব্রাহিম খলিল স্থানীয় জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরেন। তিনি রুমে বসে দুপুরের খাবারের জন্য অপেক্ষা করার সময় মিনার পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা হাতে তার রুমে প্রবেশ করে।
কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মিনার তার বৃদ্ধ পিতাকে মাথায়, মুখে, গলায়, পেটে ও হাতসহ সর্বশরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
ধারালো দায়ের উপর্যুপরি আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণে বৃদ্ধের বাম হাতটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন।
পিতার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘাতক মিনার লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত দেহটি টেনে-হিঁচড়ে বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকির গর্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বৃদ্ধের স্ত্রী মুর্শিদা বেগম ও কন্যা সেলিনা বেগম দৌড়ে রুমে এসে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করেন।
পরে মিনার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মা-বোনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় জনতা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ঘাতক মিনারকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরে রক্তাক্ত ইব্রাহিম খলিলকে উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।