

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর শুরু হওয়া এই অভিযানের দ্বিতীয় দিনে মাত্র দুই ঘণ্টায় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
প্রশাসনের দাবি, বালিয়াড়ির সব স্থাপনাই অবৈধ এবং পর্যায়ক্রমে সবকিছু উচ্ছেদ করা হবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অভিযান চালানো হয়। সাগরতীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকান ও স্থাপনা সরাতে মাঠে নামে জেলা প্রশাসন। অভিযানে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, আনসার ও বিচকর্মীরা অংশ নেন। ভিড় সামাল দিতে করা হয় মাইকিংও।
অভিযানের সময় দেখা যায়, কেউ স্ব-উদ্যোগে দোকান সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। যেসব দোকানের মালিককে পাওয়া যায়নি, সেগুলো শ্রমিকদের দিয়ে খুলে ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রায় ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দিনে মাত্র দুই ঘণ্টার অভিযানে শতাধিক স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা হলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
সুগন্ধা পয়েন্টের দোকানদার আব্দুল আলীম নোবেল বলেন, এখানে প্রায় প্রতিটি দোকান থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়েছে। কেউ ৪০ হাজার, কেউ ৫০ হাজার, আবার কেউ ৬০ হাজার কিংবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
উচ্ছেদ হওয়া আরেক দোকানদার রফিক অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা কাগজ দেখানো হয়নি। তারা কাগজ দেখতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো কাগজ দেখার প্রয়োজন নেই- সব দোকান সরিয়ে নিতে হবে।
দোকানদার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের কার্ডও দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবছর ৩০ হাজার টাকা করে নবায়ন ফি নেওয়া হয়েছে। সেই কার্ডের মেয়াদ এখনো জুন পর্যন্ত রয়েছে। অথচ হঠাৎ করেই বলা হচ্ছে, এখানে তাদের কোনো অনুমোদন নেই।
বৃহত্তর সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, উচ্ছেদের আগে বিকল্প ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা পুনর্বাসনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে।
তবে জেলা প্রশাসন বলছে, সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনার অনুমোদন নেই। পরিবেশ সুরক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অবৈধ স্থাপনা সরানো হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, বালিয়াড়িতে কোনো দোকান থাকলেই তা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বালিয়াড়িতে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
গত ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে থাকা সব ধরনের অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে। এরপরই শুরু হয় বালিয়াড়িতে উচ্ছেদ অভিযান।
মন্তব্য করুন