

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজার সৈকতে বিকেলের নরম আলোয় ঘোড়ায় চড়া অনেকের কাছেই ছোট্ট এক আনন্দ। সেই আনন্দই এক পর্যটকের জন্য অস্বস্তির অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। মাত্র ২০ মিনিট ঘোড়ায় চড়ার পর তার কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে দুই ঘোড়া চালককে আটক করেছে টুরিস্ট পুলিশ।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। আটক তরুণরা হলেন- পশ্চিম কলাতলীর সৈয়দ হোসেন (২৪) ও কলাতলী বড় মসজিদ এলাকার রবিউল হাসান (১৮)।
টুরিস্ট পুলিশ সূত্র জানায়, মি. মির্জা নামের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে আসেন। সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে বিকেলে সৈকতে ঘুরতে যান। সেখানে ঘোড়া দেখে শখের বসে চড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ মিনিট পর ঘোড়া চালকেরা তার কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তাকে ৪ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। পরে বিষয়টি টুরিস্ট পুলিশকে জানালে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়।
পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতে এমন একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়, যারা সুযোগ পেলেই দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। ঘোড়ার রাইডের পাশাপাশি কিছু অসাধু ফটোগ্রাফার, জেটস্কি ও বিচবাইক ব্যবসায়ীও একই কৌশলে পর্যটকদের চাপের মুখে ফেলেন। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দাবি, তর্ক-বিতর্ক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে অনেকেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন। ফলে আনন্দ ভ্রমণ শেষ পর্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, আর সেই হতাশা নিয়েই বাড়ি ফেরেন অনেক পর্যটক।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে আছেন। সৈকতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
