

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং করে একদল দুর্বৃত্ত সাবেক এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রীও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নাই দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৪৫) ওই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আনোয়ার আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতে তিনি গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন। রাত দুইটার দিকে এলাকায় ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন।
নিহতের ভাই জালাল হোসেনের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে আনোয়ারের এলাকায় ফেরার বিষয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে স্থানীয় ফিরোজ মেম্বারের ছেলে আনোয়ারসহ পিন্টু, হাসান ও জালাল নামের কয়েকজন আনোয়ারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
আনোয়ারের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে আনোয়ার গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ হোসেনের লোকজন তার কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তাঁরা জানতে পারেন। টাকা না দিলে এলাকায় এলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বলেন, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ এসে সকাল ছয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলেও জানান।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে আনোয়ারকে মৃত পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকায় আনোয়ারের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। অবৈধ ড্রেজার ও মাটির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালে ড্রেজারবিরোধী অভিযানের সময় তৎকালীন মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছিল আনোয়ার ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। তবে সে সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি।
তবে আনোয়ারের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, আনোয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।

