রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ এএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরীর মুন হসপিটালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে মোবারক হোসেন (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

পেট ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোবারক হোসেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের দক্ষিণখার এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।

রোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই পেট ব্যথা নিয়ে মোবারক হোসেনকে মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২৮ জুলাই তার পিত্তথলীতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

তবে অস্ত্রোপচারের পরও পেটের ব্যথা না কমায় চিকিৎসকরা জানান, অন্ত্রে প্যাঁচ লেগে আছে। এরপর ১০ আগস্ট পুনরায় তার পেটে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়ার পর রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পরপরই দায়িত্বে থাকা ডিউটি চিকিৎসক হাসপাতাল ছেড়ে যান।

এ বিষয়ে ধামতি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, রক্তে ইনফেকশন থাকার কথা জানার পরও চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেন। ১০ দিনের ব্যবধানে দুইবার অপারেশন করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভুল সিদ্ধান্ত ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

তবে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অস্ত্রোপচারকারী সার্জন ডা. সোহেল।

তিনি জানান, প্রথমবার পিত্তথলীতে অস্ত্রোপচারের সময় খাদ্যনালীতে কোনো সমস্যা ছিল না। পরে রোগী পুনরায় ব্যথা অনুভব করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খাদ্যনালীতে ইনফেকশন (সংক্রমণ) ধরা পড়ে। সে কারণেই দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করা হয়েছিল।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে নিহতের ছেলে সজিব বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কিনা তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে বিচার করা হোক।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank