

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার দাউদকান্দির এক নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করার পর মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে এ আদেশ দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জিসান মিয়া প্রধানকে কুমিল্লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাইয়োব উদ্দিন তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিতর্কের পর গত রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বোর্ডের সদস্যরা জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা জিসান মিয়া প্রধানকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে জিসানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে না পাঠিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছিল।
এর আগে দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে পুলিশ বলছে, জিসানকে অপহরণ করা হয়নি; তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২৮ বছর বয়সী জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ঘটনার পর সংগঠনটি তাকে বহিষ্কার করে।