শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবি হেফাজতে শিবির নেতা জিসান

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
শিবির নেতা জিসান
expand
শিবির নেতা জিসান

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার একদিনের মাথায় ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে ওষুধ খাইয়ে গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে অপহরণ করা হয়নি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক যুবতীর সঙ্গে জিসানের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই যুবতীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। পরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এরপর বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ শুরু করেন জিসান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময়ে তাঁর স্বজনদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের একটি জিডি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অপহরণের কোনো ঘটনা ছিল না।

জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামে।

শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই যুবতী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে আরও তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এক নারী প্রতারণা, ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানান, মামলার পর জিসানকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন