শনিবার
৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

কুমিল্লায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী। চামড়া কেনার জন্য ট্যানারি মালিক বা বড় পাইকারদের দেখা না মেলায় উপযুক্ত দাম তো দূরের কথা, চামড়া বিক্রি করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজার ও সড়কের পাশে পড়ে রয়েছে শত শত পশুর চামড়া। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে রোদ ও গরমে পড়ে থাকায় চামড়াগুলো নষ্ট হতে শুরু করেছে, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে চামড়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের এমন চরম অসহায়ত্ব ও দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। বিক্রি করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে গেছেন, আবার কেউ কেউ লোকসান বাঁচাতে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন সড়ক ও দোকানের সামনে সারি সারি করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শত শত গরুর চামড়া। দীর্ঘ সময় প্রক্রিয়াজাত ছাড়া পড়ে থাকায় এগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলার গোমকোট বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে একেকটি গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছি। বাড়তি লাভের আশায় চামড়াগুলো বাজারে নিয়ে এলেও কোনো বড় ক্রেতা বা পাইকারের দেখা মেলেনি। এই কানে ধরলাম, জীবনে বেঁচে থাকলে আর কোনো দিন চামড়ার ব্যবসা করব না। এই শিল্পটাকে পুরো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

একই বাজারের আরেক ভুক্তভোগী মৌসুমি ব্যবসায়ী বাবলু জানান, গ্রামের অলিগলি ঘুরে অনেক কষ্টে চামড়া সংগ্রহ করে গাড়ি ভাড়া দিয়ে বাজারে এনেছেন। কিন্তু বাজারে কোনো বড় ব্যবসায়ীর দেখা নেই। তিনি বলেন, এখন যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে। চামড়া নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না। এখানে আমার ৮২টি চামড়া রয়েছে, যেগুলো নষ্ট হওয়ার পথে। লোক ঠিক করেছি, চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলব।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারের বেঁধে দেওয়া চামড়ার দাম কেবল কাগজ-কলম আর টেলিভিশনেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, সরকার কেবল টেলিভিশনেই দাম ঠিক করে দেয়, বাস্তবে কেউ তা মানে না। আমরা পুঁজি খাটিয়ে চামড়া কিনে এখন বড় বিপদে পড়েছি।

চামড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর জোর দিয়ে আবুল কালাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, চামড়া বেশিক্ষণ এভাবে ফেলে রাখা সম্ভব নয়। দ্রুত লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা বা বিক্রি করা না গেলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।

আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বাজারে কয়েক শ চামড়া ব্যবসায়ীকে চামড়া নিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোনো পাইকার না আসায় অনেক ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান।

নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের গোমকোট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ভাগে ভাগে স্তূপ করে রেখেছেন কোরবানির পশুর চামড়া। বিক্রি করতে না পারায় শেষ সম্বল হিসেবে চামড়াগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হতাশ ব্যবসায়ীরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন