সোমবার
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলা নববর্ষ বরণ করতে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
মৃৎশিল্পীরা
expand
মৃৎশিল্পীরা

বছরজুড়ে মাটির তৈরি খেলনাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা কম থাকলেও পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে চাহিদা কিছুটা বাড়ে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে এসব মাটির তৈরির খেলনা নিয়ে। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া, শোল্লা ও মানুরী গ্রামের মৃৎশিল্পী পরিবারগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিল সহ নানা সামগ্রী তৈরি করে রাঙিয়ে তুলছেন তাঁরা।

উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের পালপাড়ায় গিয়ে দেখাগেছে, ঘরের আঙিনায় নারী-পুরুষ সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটি দিয়ে গড়ছেন পুতুল, কেউ বা গড়ছেন হাঁড়ি-পাতিল। রোদে শুকিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে নিপুণ তুলির আঁচড়ে রঙিন করা হচ্ছে এসব পণ্য। বৈশাখী মেলায় এসব পণ্য বিক্রি করবে বলে জানান তাঁরা।

মৃৎশিল্পী নয়নপাল, জবা পাল, সেটু পাল ও অর্পিতা পাল বলেন, তাঁরা সারা বছরই এই কাজ করেন। তবে নববর্ষের সময় ব্যস্ততা একটু বেশি থাকে। নববর্ষ উপলক্ষে বেচাকেনা বাড়লে সারা বছরের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

একই এলাকার মিন্টু , ঝন্টু ও বিকাশ পালবলেন, পৈত্রিক পেশা ধরে রাখার জন্য এখনো এই শিল্পটি টিকিয়ে রেখেছেন তাঁরা। অর্থসংকটের কারণে অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প টিকেয়ে রাখা যাবে।

শোল্লা এলাকার মৃৎশিল্পী মিঠু পাল বলেন, প্লাস্টিক পণ্য বাজার দখল করে নিয়েছে। অথচ প্লাস্টিক ব্যবহারে মানবদেহে নানা রোগ হতে পারে। আমাদের মাটির পণ্য স্বাস্থ্যসম্মত। সরকার মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়াবে বলে আমরা আশা করি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি পরিবারকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়া বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বলতে মৃৎশিল্পীদের জন্য আলাদা করে কোনো প্রণোদনা নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তাঁদের প্রণোদনা দেওয়া যাবে।

মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রাচীন শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব। বাংলা নববর্ষের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে সামনে রেখে মাটির পণ্যের চাহিদা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অনেকটা অনিশ্চিত।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন