শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ইউপি চেয়ারম্যান, রাতের স্বাক্ষরে চলে দাপ্তরিক কাজ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান
expand
চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে আছেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। এরপরেও আত্মগোপনে থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাতে গোপনে স্বাক্ষর করেন পরিষদের দাপ্তরিক কাগজে। এই কাজে তার সাথে জড়িত আছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলামসহ একটি চক্র।

সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আতিকুর রহমান হাইমচর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখায় তার বিরুদ্ধে হাইমচর ও চাঁদপুরে একাধিক মামলা হয়েছে। যে কারণে স্থানীয় লোকজন তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখাগেছে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর করেছেন জন্ম সনদে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহার ছুটি না নিয়ে চাঁদপুরে অসুস্থ্যতার কথা বলে অফিস করছেন না। আর চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর রাতের অন্ধকারে নিয়ে আসেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। এভাবেই সেবার কাজে বিড়ম্বনরা শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আতিকুর রহমান স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে গোপনে থেকে পরিষদের টাকা পয়সা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। অন্যদের টাকার ভাগ দেয়ায় তিনি মামলার আসামী হয়েও এলাকায় অবস্থান করেন।

ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, আমি নিজে কয়েকবার পরিষদে এসেছি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে। তাকে পুলিশ খুঁজছে। ৫ আগস্টের পরে পরিষদে আসেন না এই চেয়ারম্যান।

সম্প্রতি ঢাকা থেকে জন্মসনদ অনলাইন করার জন্য এসেছেন কামরুন নাহার নামে ইউনিয়নের এক বাসিন্দা। তিনি এসে চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউকে পাননি। বিউটি আক্তার নামে আরেক নারী এসেছেন তার শিশু সন্তানের জন্মসনদ নেয়ার জন্য। তিনিও একই ধরণের বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

ফোনে যোগাযোগ করা হয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান মাঝে মাঝে অফিসে আসেন। কোন সময় এবং সর্বশেষ কবে এসেছেন এমন তথ্য জানতে চাইলে এলেমেলো কথা বলেন। তিনি ছুটি নিয়ে অফিসের বাহিরে আছেন এমন তথ্য জানালেনও ইউএনও জানালেন তিনি ছুটি নেননি এবং তাৎক্ষনিক ফোন করে ইউএনও নিজেও আজহারকে পাননি।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমানের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হয় বক্তব্য নেয়ার জন্য। তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন বলেন, আমি একমাস পূর্বে এই থানায় যোগদান করেছি। এই পর্যন্ত দুইবার তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য বাড়িতে গিয়ে পাইনি। তিনি বাড়িতে থাকেন না।

থানা পুলিশের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করার জন্য পূর্বের ওসি বহুবার চেষ্টা করেছেন। তিনি পরিষদে আসনে এমন তথ্য সঠিক না। কারণ সিসি ক্যামেরা চেক করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন কায়দায় চেষ্টা করা হয়। তার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আছে। যারা পুলিশের অভিযানের টের পায় এবং সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান পাটওয়ারী আত্মগোপনে থেকে কিভাবে দাপ্তরিক কাজ করেন এই বিষয়ে জানার জন্য সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়ের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি এসেছি প্রায় ৬মাস। এই চেয়ারম্যান আত্মগোপনে আমি বিষয়টি অবগত না। তবে এখন যেহেতু জেনেছি, অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন গেল বছর সেপ্টেম্বর মাসে ইউএনও অমিত রায়কে জানানো হয়। তখন তিনি বলেছেন আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কিন্তু ওই খোঁজ খবর নেয়ার সময় ৪ মাস পার হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X