মঙ্গলবার
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন কন্যা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
সংরক্ষিত আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন কন্যা
expand
সংরক্ষিত আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিন কন্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। জেলার তিন কন্যা সানজিদা ইসলাম তুলি, নাদিয়া পাঠান পাপন এবং মারদিয়া মমতাজ দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। বিশেষ তাৎপর্য হলো, এদের মধ্যে দু’জনের শিকড় নবীনগর উপজেলায়, যা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন পাওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর গ্রামের হাজি মফিজুল ইসলামের মেয়ে। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার আন্দোলনের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। ‘মায়ের ডাক’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক হিসেবে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষে তার নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি এনে দিয়েছে। ২০১৩ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন হিসেবে ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই তার এই লড়াইয়ের সূচনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান জানান দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করা তুলি সাহস, প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

একই দলের আরেক মনোনয়নপ্রাপ্ত নাদিয়া পাঠান পাপন বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত পাপন ছাত্রদলের রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়, যা তার সংগঠনিক দক্ষতার প্রতিফলন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ ভিন্নধর্মী একটি প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেছেন। জেলা শহরের পাইকপাড়ায় বেড়ে ওঠা হলেও তার পৈত্রিক নিবাস নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা মারদিয়া একজন মেধাবী প্রকৌশলী, গবেষক ও লেখক। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পাশাপাশি রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একইসঙ্গে, মানবাধিকার আন্দোলন, ছাত্ররাজনীতি এবং পেশাগত উৎকর্ষ,এই তিন ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্বকারী তিন নারী নেত্রীর মনোনয়ন দেশের রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন