শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই বাজেট দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তন ও লুটপাটের বাজেট: গোলাম পরোয়ার

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার
expand
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, ‘সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংশোধন করা না হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটবে না। এই বাজেট হয়েছে মূলত ক্ষমতাসীন দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং লুটপাটের বাজেট।’

শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত ‘উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোলা জেলা জামায়াতের আমির আলহাজ্ব জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার জুলাই জাতীয় সনদ এবং সদ্য ঘোষিত বাজেট নিয়ে সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এই সংকট তৈরি করেছে।”

সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংবিধান সংস্কার পরিষদের ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবের ওপর সব দল একমত হওয়ার পর, ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের দলও তখন এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সংসদে মেজরিটি সাপোর্ট নিয়ে বসার পর তারা এখন বলছেন এই গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নাকি বেআইনি!”

তিনি আরও যোগ করেন, “১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল স্বাক্ষর করল, ১৩ নভেম্বর প্রেসক্রিপশন অর্ডার হলো, ২৫ নভেম্বর গণভোটের অর্ডিন্যান্স জারি হলো—মাঝখানের এই চার মাসে তারা কোনো বিরোধিতা করল না। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ইউ-টার্ন নিল। সংসদে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, তখন নাকি একরকম বোঝাপড়া করে তারা ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, তাদের অন্তরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো সদিচ্ছা ছিল না; বরং ক্ষমতার চেয়ারে বসে জাতির ওপর পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে রাখাই তাদের উদ্দেশ্য।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট সরকারের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র বিরোধিতা করছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করছে।

বাজেটের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, “গত ৯ জুন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমিরে জামাত একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করেছিলেন। যেখানে আমরা কর কাঠামো দুর্নীতিমুক্ত করা, ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ কমিয়ে নিজস্ব উৎসের ওপর অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেসব বাদ দিয়ে একটি উচ্চাভিলাষী ও বৈদেশিক ঋণ-নির্ভর লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে।”

বাজেট মেয়াদের সংস্কার দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের আমিরে জামাত স্পষ্ট বলেছেন, বাজেট ‘জুন-জুন’ না করে ‘জানুয়ারি-ডিসেম্বর’ করা উচিত। কারণ জুন মাসে বর্ষার মৌসুমে উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা ব্যাপকভাবে লুটপাট হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জুডিশিয়ারি সহ সরকারি খাতগুলো থেকে দুর্নীতি না কমালে এই বাজেট দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সরকার আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে যে নতুন ইস্যু তৈরি করেছে, তা মূলত ইসলামী ব্যাংক থেকে মানুষের নজর অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার একটি অপকৌশল। ইসলামী ব্যাংক প্রায় তিন কোটি মানুষের আমানত রক্ষা করছে। দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সেখানে নিরাপদে লেনদেন করছে। এই ব্যাংক নিয়ে সরকার কোনো তামাশা করলে দেশের জনগণ তা মোটেও ভালোভাবে নেবে না।”

সম্মেলনে ভোলা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন