বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মা ও দুই মেয়ে মরদেহ উদ্ধার

ঋণের দায়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
বরগুনার ডাকবাংলো
expand
বরগুনার ডাকবাংলো

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। প্রতিদিনের মতোই চলছিল সব কাজ। কিন্তু বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে আচমকাই স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। ডাকবাংলোর পাশাপাশি দুটি কক্ষে পড়ে থাকতে দেখা যায় মা ও তার দুই শিশু কন্যার নিথর দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বরগুনা থানা পুলিশ, সিআইডি ও ডিবি পুলিশ।

নিহতরা হলেন, বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানী এবং তার দুই কন্যা, ১২ বছরের আরাধা ও মাত্র ৩ বছরের অনুরাধা। নিহত ইতি রানী এই ডাকবাংলোতেই খণ্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘুমের ওষুধ খেয়ে তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সকালে ব্যবসার কাজে আমতলী বাজারে যাওয়া নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস তখনও জানতেন না, এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া। দুপুরের পর হঠাৎ করেই এমন খবরে আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারটিতে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি জোরালো তদন্তের দাবি পরিবারের।

নিহতের বড় বোন রিতা রানী বলেন, ‘তাদের পরিবারে কোনো ঝামেলা ছিল না। শুধু বিভিন্ন ব্যাংকের কিস্তি ছাড়া। বেশ কিছু ব্যাংকে ঋণ থাকায় সব সময় খুব টেনশনে থাকতো আমার বোন।’

নিহতের স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমি সকালে সুপারি নিয়ে আমতলী বাজারে যাই আমতলী থেকে ফিরে ওদেরকে ঘরে দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই আমাকে এলাকার এক বড় ভাই গিয়ে জেলা পরিষদ ডাকবাংলায় নিয়ে আসে এবং এসে এই অবস্থা দেখতে পাই।’

বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার লিটন, ‘আমি দুপুর দুইটার দিকে ডাকবাংলোয় আসি। এসে ভাত খেয়ে ওপরে উঠে দেখতে পাই, পাশাপাশি দুইটি কক্ষের একটি কক্ষের দরজা খোলা। একটু সামনে গিয়ে দেখি বড় মেয়ে অচেতন অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছে। অপর একটি রুমের দরজা বন্ধ দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।’

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ঘুমের ওষুধ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সব দিক।

এবিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা, মৃতদেহের পাশে মিলেছে ঘুমের ওষুধ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যা হতে পারে। তবে আরও গভীর তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।’

ঋণের দায় নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের নিবিড় তদন্তেই উন্মোচিত হবে মা ও দুই শিশুকন্যার মৃত্যুর আসল কারণ, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন