

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইকোপার্ক সংলগ্ন একটি সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবার শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উদ্যোগ নিয়ে কাজটি পুনরায় চালু করেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০–২১ অর্থবছরে দক্ষিণা খালের ওপর (স্থানীয় নাম সোনাকাটা খাল) ৭২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ টাকা। সেতুটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে ১০ ফুট। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাড়ের অবকাঠামোগত কাজ আংশিক সম্পন্ন হলেও মাঝখানের ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যান দীর্ঘ সময়েও বসানো হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর উচ্চতা কম বলে দাবি তুলে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যে খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি তুলনামূলকভাবে ছোট। এ খাল দিয়ে বড় কোনো নৌযান চলাচল করে না; কেবল কিছু ছোট মাছধরা নৌকা চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত উচ্চতায় সেতুটি নির্মাণ করা হলে নৌযান চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।
সোনাকাটা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মহসিন বলেন, দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর অবশেষে সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য যাঁরা সংবাদ প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে এনেছেন, সেই সাংবাদিকদের আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।
সোনাকাটায় কর্মরত বন বিভাগের বনরক্ষী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই সেতুর কাজ বন্ধ দেখেছি। সংবাদ প্রকাশের পর আবার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর স্বস্তি ফিরেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হামজা জানান, গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরা এবং এলজিইডির উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কাজটি পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে সোনাকাটা ও আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। আমরা কাজটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।
বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, সেতুর উচ্চতা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ বন্ধ ছিল। একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের লিখিত আবেদনের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অবশেষে সেতুর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন
