শুক্রবার
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানুষের তাড়া খেয়ে গর্তে পড়ে মরলো শাবক, পাশেই কাঁদছে মা হাতি

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারাগ্য পাড়া এলাকায় একটি বাচ্চা হাতির মৃত্যু হয়েছে। লোকালয়ে প্রবেশ করা হাতির পাল মানুষের তাড়া খেয়ে বনে ফেরার পথে গর্তে পড়ে শাবকটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে বাচ্চা হাতিটির শাবকটির মৃত্যু হয় বলে ভাষ্য স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, কয়েকদিন ধরে একটি হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছিল। মানুষের তাড়া খেয়ে পালটি গহীন পাহাড়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে মারাগ্য পাড়ার পশ্চিম পাশে মংবেছা মেম্বারের গোদার পাড় এলাকায় একটি গর্তে বাচ্চা হাতিটি পড়ে যায়। তবে মা হাতি আশপাশে অবস্থান করায় ভয়ে কেউ উদ্ধার কাজে এগিয়ে যেতে পারেনি। পরদিন বুধবার বিকালে মা হাতিটি বাচ্চাটিকে টেনে মারাগ্য পাড়া খালে নিয়ে আসে। কিন্তু ততক্ষণে বাচ্চা হাতিটি মারা যায় বলে জানান স্থানীয়রা। পরে হাতির পালটি আবার পাহাড়ের ভেতরে চলে যায়। তবে বেশ কিছুক্ষণ মা হাতিটিকে বাচ্চাটির পাশে বসে কাঁদতে দেখা যায়।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডাক্তার ছ্যালা থোয়াই মারমা বলেন,‘গত কয়েকদিন ধরে হাতির পালটি লোকালয়ে ঘোরাফেরা করছিল। মানুষের চাপে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। গর্তে পড়ে যাওয়ার পরও মা হাতির উপস্থিতির কারণে কেউ এগোতে পারেনি।’

নাইক্ষ্যংছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান,খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছি। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বনভূমি উজাড় করার ফলে হাতির স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। খাদ্যের অভাবে হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যার ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। তারা দ্রুত পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাতির চলাচলের নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করা এবং বন সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন,পাহাড় ও বনভূমি রক্ষা না করা হলে এ ধরনের মানুষ-হাতি সংঘাত আরও বাড়বে। যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন