

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লায় মোবারক হোসেন নামের এক কুয়েত প্রবাসীর জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে মোশাররফ হোসেন নামে জামায়াতের দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এ ঘটনায় মোবারক হোসেন জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দাউদকান্দি মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে মোশাররফ হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রবাসী মোবারক হোসেন দাউদকান্দি উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১৪ বছর কুয়েতে কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগে মোবারক লেখেন, প্রবাসে থাকাবস্থায় আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে মোশাররফ হোসেনের ওপর আস্থা রেখে দাউদকান্দি পৌরসভার পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল) এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পাঁচ শতাংশ জমি কেনার জন্য ২০০১ সালে তিন লাখ টাকা এবং রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ আরও ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অর্থ গ্রহণের পর মোশাররফ বারবার জমির রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। পরে দেশে ফিরে নিজ অর্থায়নে জমি ভরাট, বসতঘর, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসংযোগসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন মোবারক।
মোবারক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে জমি-সংক্রান্ত আলোচনার কথা বলে তাকে চিটাগাং রোড এলাকার এক আইনজীবীর কার্যালয়ে নিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। কাগজটি তাকে পড়তে না দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়। এরপর থেকে জায়গার দলিল না দিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ঘোরানো হয়। দলিল না থাকার কারণে একপর্যায়ে ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
তবে বর্তমানে মতলব উপজেলার এক ব্যক্তি নিজেকে ওই জমির মালিক দাবি করে বাড়িটি ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে অভিযোগ করেন মোবারক হোসেন।
এ বিষয়ে গত ২৫ মার্চ কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন মোবারক হোসেন। অভিযোগে তিনি জমির ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সম্প্রতি দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোবারক। এতে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ২০ জুন সকালে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে মারধর, প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বেপারী বলেন, আমি ২০০৮ সাল থেকে এই বলদাখাল এলাকায় বসবাস করছি। তখন থেকেই মোবারক হোসেনকে ওই বাড়িতে থাকতে দেখেছি। পরে তিনি কী কারণে এখান থেকে চলে গেছেন, সেটা জানি না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোশাররফ হোসেন বলেন, মোবারক হোসেন আমাকে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সময়ে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো দিয়েছিলেন। আমি সেই টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করি এবং ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে তাকে মোট ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। তার সঙ্গে আমার কোনো জমি-সংক্রান্ত লেনদেন হয়নি। তিনি এ ধরনের কোনো প্রমাণও দেখাতে পারবেন না। তবে তিনি চাইলে পারিবারিক বা সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি আলোচনা করতে আমি রাজি।
