

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নড়াইল সদর উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধি আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যার ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৬ টার দিকে এলাকাবাসীর আয়োজনে উপজেলার বাশগ্রাম রামসিদ্ধি মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়।
মানববব্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা এলাকার প্রধান সড়ক ঘুরে সার্কেলডাঙ্গা মাদ্রাসা এলাকায় এসে শেষ হয়। এ সময় মো. মিলন মোল্যার সভাপতিত্বে এবং মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, নিহত আনোয়ারের ভাতিজা মো. মাহমুদ মোল্যা, তার ভাই, হাফিজুর রহমান মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা এবং এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, মো. খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিহত আনোয়ার হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন। আমাদের জানা মতে সে একজন ভাল মানুষ ছিলেন। সে কারো ক্ষতি করেনি। মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এ সময় বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও নিরীহ যুবককে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত অমানবিক। এই ঘটনায় তারা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম নিজ বাড়িতে নেয়া হয়৷ সেখানে মাগরিব বাদ নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানায় স্বজনরা।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, আনোয়ার হোসেনকে মারধরের ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় একটি মামলা হয়েছে৷ যেহেতু তিনি মারা গেছেন, সেজন্য মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তিত হবে। মামলার আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধি যুবক আনোয়ার হোসেন গত (২৪ জুন) সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান। অভিযোগ ওঠে উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান।
পরে ওইদিন তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে তিনি মারা যান।
