

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশু কে ধর্ষণ ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক যুবককে ফাঁসির আদেশ দেন মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালত। আদেশের নথি ডেথ রেফারেন্স লাল কাপড়ে মুড়িয়ে পুলিশ পাহায় পাঠানো হলো উচ্চ আদালতে। ঢাকা হাইকোর্ট বেঞ্চ ও আপীল বিভাগ এই রায়ের নথি পর্যালোচনা ও শুনানী গ্রহণ শেষে ফাঁসি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করবেন বলে জানান মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে জেলা পুলিশের একটি দল ও নারী শিশু আদালতের অফিস সহকারী আহাদ হোসেন ফাঁসির রায়ের নথি লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে।
মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, সিআরপিসির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী নিন্ম আদালতে ফাঁসির রায়ের পর তা অনুমোদনের জন্য তিন কর্ম দিবসের মধ্য নথি লাল কাপুড়ে মুড়িয়ে পুলিশি পাহারায় উচ্চ আদালতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। ঈদের ছুটির পর আদালত খুললে আজ সেটি পাঠানো হলো। এই নথি ঢাকা হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ ও আপীল বিভাগ রায়ের নথি পর্যালোচনা আগে সেখানে পেপার বুক তৈরি করে শুনানির জন্য পাঠানো হবে। উচ্চ আদালত শুনানী শেষে ফাঁসি রায় বহাল রাখা ও তা কার্যকর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তি আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করবেন।
উল্লেখ: গত ২৪ মে রবিবার দুপুর দেড়টার সময় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো: তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষনা করেন। দেশের ইতিহাসে ২৯ কার্ষদিবসের মধ্য স্ব-শরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে ১৩ স্বাক্ষীর সাক্ষী জেরা জবানবন্দি গ্রহন করে আদালত।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ই জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের আবাদী মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় অস্ত্র ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাশ্ববর্তী পাট খেতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে শিশুর চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ধর্ষককে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দেন।