

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মাদ্রাসার তিন ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. শাহীন উদ্দীন (৩১) নামের এক শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৫ জুন) মাদ্রাসার অফিস কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত শাহীন উদ্দীন উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হাসনাদ এলাকার মৃত বদিউল আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় খিল্লাপাড়া হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও হেফজখানার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৪ জুন) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ওই শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন। কোমলমতি ছাত্রীরা তাঁর এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারকে জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার মাদ্রাসা কার্যালয়ে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে শিক্ষক ও ভুক্তভোগী ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়। পরে উপস্থিত অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর প্রবাসী অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শ্রেণিকক্ষে সন্তানদের সাথে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শ্লীলতাহানি করে আসছে। এভাবে চললে আমরা সন্তানদের কীভাবে মাদ্রাসায় পাঠাব? আমি প্রবাসে থেকে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। আমি এই লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আমাদের মাদ্রাসার এক শিক্ষক অত্যন্ত অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কোনো আপস করিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেউই আমাদের বিষয়টি জানায়নি।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা আসলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।