

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের সাসেক-২ ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পকে ঘিরে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে ভূমি মালিকদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ না দিলে মিলছে না চেক, আটকে রাখা হচ্ছে ফাইল।
৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই ইন্টারচেঞ্জের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু যেসব জমির ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠছে এই প্রকল্প, সেই জমির মালিকদের অনেকেই এখনও পাননি তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী দীর্ঘসূত্রতা এবং নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রেখে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে বছরের পর বছর ঘুরলেও মিলছে না ক্ষতিপূরণের চেক।
রাধানগর মৌজার ষাটোর্ধ্ব সহির উদ্দিন জানান, সাসেক-২ প্রকল্পের জন্য তার প্রায় সাড়ে ২৮ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০২০ সাল থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার আশায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঘুরতে থাকেন তিনি। অভিযোগ করে তিনি বলেন, তিন বছর ঘোরার পর ওই শাখার কানুনগো রকিবর রহমান রকিব ও সার্ভেয়ার মমতাজ উদ্দিন তার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে অন্য জমি বিক্রি করে তাদের সেই টাকা দেন তিনি। কিন্তু আরও তিন বছর পর তাকে জানানো হয়, অধিগ্রহণ তালিকায় তার কোনো জমিই নেই। পরে আবার অতিরিক্ত টাকা দিলে কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সহির উদ্দিনের মতো আরও অনেক জমির মালিকের অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বছরের পর বছর ফাইল আটকে রেখে এক ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে অনেককেই ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ঘুষ হিসেবে দিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জ ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো রকিবর রহমান রকিব। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নুর নাহার বেগম বলেন, কেউ জমির মালিকদের হয়রানি করলে কিংবা অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও কেউ যদি দুর্নীতি বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ দেশের উন্নয়নের প্রতীক হলেও, ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সেই অর্জনকে ম্লান করছে। এখন ভুক্তভোগীদের চোখ জেলা প্রশাসনের দিকে। তাদের প্রত্যাশা, অসাধু চক্রের লাগাম টেনে ধরলেই ফিরবে আস্থা, মিলবে প্রাপ্য অধিকার।