

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার আমতলী উপজেলার এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবিরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বই পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুন জ্বালিয়ে বিপুল পরিমাণ বই ও কিছু আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ভবনে গত প্রায় ২০ বছরের নতুন-পুরাতন বই এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র সংরক্ষিত ছিল। সোমবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই এসব বই ও আসবাবপত্রে আগুন দেন বলে অভিযোগ ওঠে। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক পর্যায়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী, লামিয়া ও জান্নাতি, অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক অনেক নতুন ও পুরাতন বই আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয় এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বইয়ে আগুন দিয়েছেন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো নথিপত্র ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই বইয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।
এদিকে, প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পুরাতন বই ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কোনো নতুন বই পুড়ানো হয়নি।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসন বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারেননি।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, বই পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।