রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্পে পাংশায় ১৩ কিমি খাল পুনঃখনন: উপকৃত ৭৭১ দরিদ্র শ্রমিক

মো. আকাশ মাহমুদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চলমান অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন ৭৭১ জন অতি দরিদ্র শ্রমিক।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত কর্মসূচির আওতায় পাংশা উপজেলার যশাই ও পাট্টা ইউনিয়নে পৃথক দুটি প্রকল্পে মোট ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর মধ্যে যশাই ইউনিয়নের ঢেঁকিপাড়া খালের ৯ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৭ টাকা এবং পাট্টা ইউনিয়নের আঁধারকোটা খালের ৩.৯৭০ কিলোমিটার অর্থাৎ প্রায় ৪ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৫ টাকা। প্রকল্প দুটির মেয়াদ আগামী ১৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খাল দুটি ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছিল। ফলে এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল। পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবেন। একই সঙ্গে পাটচাষিরাও সহজে পাট জাগ দিতে পারবেন। এতে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় খালের দুই তীরে তাল, নারিকেল ও মেহগনি গাছ রোপণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কৃষক ও পথচারীরা পাবেন ছায়াঘেরা পরিবেশ।

প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন কাজ করে তারা ৫০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন, যা তাদের সংসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুরুষ শ্রমিকদের ভাষ্য, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মজুরি কিছুটা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হলে আরও ভালো হতো, তবে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছেন।

অন্যদিকে খাল খননের সুফল নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের ভাষ্য, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় ফসল জলাবদ্ধতায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। আবার খরা মৌসুমে এই খাল থেকে পানি নিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বর্তমানে পাটের মৌসুম চলায় কৃষকদের জন্য আরও একটি বড় সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। আগে পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাবে তারা দুশ্চিন্তায় থাকতেন, কিন্তু এখন খালের পানি ব্যবহার করে সহজেই পাট পচাতে পারবেন।

যশাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু খা বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা প্রকল্পের আওতায় খাল খননের ফলে এ অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পে প্রতিদিন ৫৩৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন, যা তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছে।”

যশাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহাব আলী প্রামাণিক বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ভাবনাকে ধারণ করে তাঁর উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এ উদ্যোগের ফলে এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া ৯ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কাজের মান সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর মতে, খননকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং এর সুফল ভবিষ্যতে এলাকার মানুষ ভোগ করবে।

পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকিদুল বিশ্বাস বলেন, “উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির ফলে কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখেই এগিয়ে চলছে। অবশিষ্ট কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আর এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় দরিদ্র কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় তারা কাজ করে যে পারিশ্রমিক পাচ্ছে তাতে তারা অনেক উপকৃত হচ্ছে”

পাংশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি পাটপ্রধান এলাকা। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবেন। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। কাজের মানও অত্যন্ত সন্তোষজনক।”

পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত উন্নয়ন ভাবনার আলোকে খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণকে সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় পাংশায় পৃথক দুটি খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, এই খাল খনন কর্মসূচি শুধু কৃষি খাতের উন্নয়নেই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সময়ে দেশের জন্য খাল খনন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে।

পাংশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারভুক্ত প্রকল্পের আওতায় পাংশা উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে তিন ধরনের গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাটিক্ষয় ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে বিশেষ করে কৃষক শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।”

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক বলেন, “পাংশা উপজেলার পাট্টা ও যশাই ইউনিয়নে পৃথক দুটি খাল খননের কাজ সন্তোষজনকভাবে চলমান রয়েছে। পাট্টা ইউনিয়নের প্রায় ৪ কিলোমিটার খননকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে যশাই ইউনিয়নের ৯ কিলোমিটার খননকাজ খালে কিছু পানি প্রবেশ করায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে সার্বিকভাবে প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।”

উল্লেখ্য, সরকারের বৃহৎ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মে পাংশা উপজেলার পাট্টা ও যশাই ইউনিয়নে পৃথক দুটি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন