সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে ৬ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া শিকার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বনদস্যুদের কবলে পড়ে ছয় জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন।

একই ঘটনায় দস্যুদের হামলায় ইসমাইল খাঁ (ইসমাইল হোসেন) নামে এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও জেলেদের স্বজনদের অভিযোগ, রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদে খাল এলাকায় অবস্থানরত কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় হামলা চালায় বনদস্যুরা। নিজেদের ‘নানাভাই-ডন বাহিনী’র সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।

অপহৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের দেলোয়ার খাঁর ছেলে ইয়াসিন খাঁ (৩২) ও আলমগীর খাঁ (৩৮), হরিনগর গ্রামের আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে আলামিন মোল্লা (৩৫), আব্দুল গফুর গাজীর ছেলে শাহজাহান গাজী (৪৮), নুরুল হক গাজীর ছেলে কামরুল গাজী (৪৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের রফিকুল গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৮)।

অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে বনদস্যুরা প্রত্যেক জেলের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে একাধিক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোট দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে অপহৃতদের হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

ঘটনার সময় অপহৃতদের স্বজন ইসমাইল খাঁ বনদস্যুদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে নৌকার বৈঠা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তার মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসমাইল খাঁ জানান, সুন্দরবন থেকে ফেরার সময় বনদস্যুরা তাদের নৌকায় হামলা চালিয়ে তার দুই ভাইসহ কয়েকজন জেলেকে অপহরণ করে। তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দস্যুরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

তিনি আরও দাবি করেন, মুক্তিপণ দাবির একটি ফোনালাপের রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। ওই কথোপকথনে অপহৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বজনরা জানান, অপহৃত জেলেরা গত ২৫ মে সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতি নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে বনাঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মে রাতের মধ্যে তাদের লোকালয়ে ফিরে আসার কথা ছিল।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, অপহরণের খবর তার জানা ছিল না। তবে নাম শুনে তিনি নিশ্চিত করেন যে অপহৃতদের মধ্যে কয়েকজন তার স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, অপহরণকারীদের কথোপকথনে কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করার বিষয়টি নাকচ করে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জেলেদের কোস্টগার্ডের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি না জানানোর উদ্দেশ্যে দস্যুরা এমন কৌশল অবলম্বন করে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার পর থেকেই কোস্টগার্ড বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। অপহৃতদের উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অপহৃত জেলেদের পরিবার দ্রুত তাদের নিরাপদ উদ্ধার এবং সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন