

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৯০ দিন বনাঞ্চলে সর্বসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিম বন বিভাগ। এই সময় নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণসহ সব ধরনের বনসম্পদ সংগ্রহ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের প্রবেশও পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।
ফলে খুলনা রেঞ্জের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১ লাখ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বনজীবী, জেলে, বাওয়ালি ও ট্রলারচালক পরিবার চরম জীবিকাগত সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় উপকূলীয় এলাকায় খাদ্য সংকট ও মানবিক দুর্ভোগ আরও তীব্র হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিবেশবিদরা এই সিদ্ধান্তকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অর্থনীতিতে। স্থানীয় বনজীবীরা এই সময়ে জরুরি সরকারি খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।
কয়রা উপজেলার মাঠবাড়ী গ্রামের বনজীবী লিটন হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার এই তিন মাস আমাদের ঘরে উনুন জ্বলে না। পরিবার নিয়ে ঠিকমতো খাবার জোটে না। বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, যা আমাদের সারা বছর চাপে রাখে। সরকারি সহায়তা না পেলে এবার বড় সংকটে পড়তে হবে।
কয়রা কাটকাটা বোট মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল কবির রিপন বলেন, ট্রলার ও পর্যটন ব্যবসা বন্ধ থাকলে চালক, সহকারী ও গাইডরা পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েন। এই সময়ে বিকল্প কাজ না থাকায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে যায়। তাই সরকারের কাছে খাদ্য সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, সাগরের জেলেরা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সহায়তা পেলেও সুন্দরবনের নির্ভরশীল মানুষরা বঞ্চিত থাকেন। এ সময় তাদের জন্য খাদ্য সহায়তা জরুরি।
কয়রা উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুধার্ত মানুষ দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব নয়।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (ACF) মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, এই নিষেধাজ্ঞা বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে মানবসৃষ্ট চাপ কমিয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বনজীবীদের জন্য ভিজিএফসহ খাদ্য সহায়তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। দ্রুতই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই সময়ে বনজীবীদের জন্য বিশেষ খাদ্য বরাদ্দ ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।