

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কয়েকজন ছাত্রী ও শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত এবং তাদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডে ভর্তি হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আলী আজম সাব্বির খানের বিরুদ্ধে।
ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তাকে জুতাপেটা করেন। পরে তিনি ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না—এ মর্মে লিখিত মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আলী আজম সাব্বির খান শিবগঞ্জ উপজেলা এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সমন্বয়ক।
গত ২৪ মে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম ইমদাদুল হক বলেন, ঘটনাটি ‘সাধারণ’ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা এনসিপি ওই নেতাকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে।
আলী আজম সাব্বির খানের এই ঘটনায় টিটিসির নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বগুড়া শিবগঞ্জের দহিলা গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বির খান বগুড়া টিটিসিতে তিন মাসের ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডে ভর্তি হন। তিনি নিজের ট্রেডের পাশাপাশি অন্য ট্রেডের কমপক্ষে ২০ ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও অশালীন কুপ্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়; প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ছয় জন শিক্ষিকাকেও একই ধরনের কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে নিষেধ করলেও তিনি তাদের এনসিপির সমন্বয়ক পদের ভয় দেখান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টিটিসির অধ্যক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন। পরে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এরপরও এনসিপি নেতা সংশোধন হননি। তিনি প্রতিষ্ঠান ছুটির দিন গত ২৪ মে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচারণ ও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে জুতাপেটা করেন। এরপর ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক কাজে জড়িত থাকবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের হয়রানির সঙ্গে জড়িত এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বির খানকে আইনের আওতায় এনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে আলী আজম সাব্বির খানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত বার্তায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা এনপিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ ও সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
