

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানাচর, চান্দ্রা, বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে ঝড়ে গাছ ভেঙে তার ছিড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। ২৭ মে মধ্য রাত থেকে ২৮ মে দিনগত রাত পর্যন্ত এসব গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎহীন ছিলো পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। যার ফলে গ্রামে ঈদ উৎসব করতে আসা লোকজন দুর্ভোগে পড়ে। আবার অনেক গ্রামে পশু কোরবানি দেয়নি লোকজন।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উল্লেখিত এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে। সরেজমিন দেখাগেছে অনেক স্থানে ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় ও বসত ঘরের ওপরে পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখ বলেন, মঙ্গলবার দিনগত রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। দুইদিন পরে বৃহস্পতিবার রাত ২টায় বিদ্যুৎ আসে। আবার শুক্রবার সকালে চলে যায়। আমাদের গ্রামে অনেকে কোরবানি করেনি। গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন রেফ্রিজারেটর আছে। অনেকেই কোরবানির মাংস নিজের এবং স্বজনদের জন্য রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করে। যে কারণে কোরবানি করেনি।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে সরবরাহ বন্ধ ছিলো। ফোন করলে বিদ্যুতের লোকজন এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করে।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন বলেন, ঝড়ে সড়কে ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের লোকজন পূর্ব থেকে এসব গাছ কেটে সরবরাহ লাইন পরিস্কার রাখা দরকার ছিলো। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের কাজে অবহেলা আছে। গ্রামে অনেক ঈদ উৎসব করতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর, জব্বর ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিলো। পাশের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে একই অবস্থা।
তিনি আরো বলেন, বুধবার সকালের ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯নম্বর ওয়র্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। আহত হয় ওই পরিবারের তিন সদস্য। বিদ্যুৎ সরবাহ বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পরে আমাদের লোকজন কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে লাইন চালু করা হয়েছে। এরপরও যদি কোন গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, জানালে সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করবে।