

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফেরির টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। টিকিটে সরকারি মূল্যের থেকে ট্রাক প্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা অধিক নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়ায় কর্মরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
অথচ পাটুরিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কঠোর হুশিয়ারি দিলেও তা উপেক্ষা করেই চলছে বাড়তি ভাড়া আদায়।
জানা যায়, পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া, আরিচা- কাজীর হাট নৌরুটে ফেরি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী ও যানবাহন পারাপার এবং ঘাট এলাকার সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বিআইডব্লিউটিসি অর্থাৎ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন।
নৌ পথে যানবাহন গুলোর জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন। তবে প্রতি ট্রাক থেকে নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও অতিরিক্ত ৫০-২০০ টাকা অর্থ আদায় করছেন বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়ায় কর্মরত কাউন্টারে থাকা কর্মীরা।
আই ডব্লিউ টি সি এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে প্রতি বছর ঈদ যাত্রায় ট্রাক চালকদের চলাচল বন্ধ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পর পারাপার করা হয়।
গোপন সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে কাউন্টারে থাকা লোকদের সহায়তায় বিনা টিকিটে একাধিক মালবাহী ট্রাক পারাপার হয়। কাউন্টার থেকে বলে দেয় তাই তারা খুব সহজেই ফেরি পার হয়ে যায়।
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা ট্রাক চালক মারুফ বলেন, টিকিটের দাম আগের থেকে অনেক বেশি। আগে নিতো ২৬০০ এখন নেয় ২৭০০ টাকা। আমার গাড়িতে মাল অভারলোড আছে তাই ২৭০০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। আগে ২০টন মাল নিয়া গেলে ২৬০০ টাকা নিতো, এখন ২৭০০ নিতাছে। তারপরও টিকিট পাই না। দালালরা যার যার মত টিকিট নিয়া ভিআইপি কইরা গাড়ি পার কইরা দেয়। আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করি।
তবে মারুফের গাড়ির টিকিট হাতে নিয়ে দেখা যায়, তার টিকিটে মূল ভাড়া ২১০০ টাকার সঙ্গে হাতে লিখে অভারলোডের অতিরিক্ত ৪৮০ টাকা যোগ করা হয়েছে। যদিও ফেরির কপিতে সেই অতিরিক্ত টাকার অংশে ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল। সব মিলিয়ে ভাড়া হওয়ার কথা ২৫৮০ হলেও তার কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২৭০০ টাকা।
চুয়াডাঙ্গাগামী আরেক ট্রাক চালক বলেন, টিকিটে লেখা আছে ২১০০ কিন্তু নিয়েছে ২২০০ টাকা। তারা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে বলে তাদের নাকি ঈদ বোনাস দেওয়া লাগে।
হামিম নামে এক ছোট গাড়ির ড্রাইভার বলেন, ভাড়া ১৫৫০ কিন্তু নিছে ১৬০০ টাকা। প্রতি গাড়ি থেকেই এমন করে তারা। আবার মাঝে মাঝে ঘাট যত জ্যাম হবে তত টাকা আরো বাড়িয়ে দেয় ওরা।
আরোও কয়েকজন ট্রাক ড্রাইভারের সাথে এনপিবির এই প্রতিবেদকের কথা হলে তারা জানান, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বিআইডব্লিওটিসির কাউন্টারের কর্মীরা।
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট রায়হান খান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার সাথে আমাদের কোন লোক জড়িত না। কিছু ট্রাকচালক না জেনেই এমন অভিযোগ করেন। এমন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আসলে কোন সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এই অভিযোগের তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।