সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসালেন সাবেক ছাত্রদল নেতা

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
সাবেক ছাত্রদল নেতা জিহাদ ফেরদৌস চমক ও চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের মাঠে পশুর হাট।
expand
সাবেক ছাত্রদল নেতা জিহাদ ফেরদৌস চমক ও চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের মাঠে পশুর হাট।

কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফটকের তালা ভেঙে মাঠে পশুর হাট বসিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমক।

কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও পেশীশক্তি ব্যবহার করে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে কলেজ গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে হাট শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী।

জিহাদ ফেরদৌস চমক জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক। তিনি চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা।

অভিযুক্ত এই সাবেক ছাত্রদল নেতার দাবি, জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করে কলেজ মাঠে তিনি হাট বসিয়েছেন। তবে লিখিত অনুমতি দেখাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

কলেজটির অধ্যক্ষ জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

গত বুধবার রেজুলেশনসহ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়। এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক এবং চিলমারী থানার ওসিকেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কিছুর পরও জোর পূর্বক কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী বলেন, কলেজ মাঠে তো পশুর হাট বসাতে পারে না। লিখিতভাবে জানানোর পরও আমি নিজে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে জানিয়েছি। রোববার সকালে কলেজ চত্বরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।

এরপর কী ন্যাগেসিয়েশন হয়েছে জানি না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ চলে গেলে আয়োজকরা গেইটের লাগানো তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে। কলেজ মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়েছে।’

নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি তো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারি না। স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এটা ডিসি এবং ইউএনও’র কাজ। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমি কী করতে পারি!

ছাত্রদল নেতা চমক বলেন, ‘ সরকার ২০২৫ সালে অস্থায়ী হাট বসানোর আইন করেছে। অস্থায়ী হাট করতে হলে ডিসিকে একটা জামানত দিতে হবে।

আমরা জামানত জমা দিয়েছি। ডিসির অনুমতি নিয়ে কলেজ মাঠে হাট বসিয়েছি। টাকা জমা দেওয়ার রিসিট আমার কাছে আছে।’

আমাদেরকে ডিসি অফিসে তলব করেছিল। ডিসি অফিসে আমরা অনুমতি নিয়েছি। তারা বলেছেন যে ‘ফি দিয়ে আপনারা এটা করেন’। সরকারের নিয়ম মেনে আমরা এটা করেছি। ইউএনও মহোদয়ের সাথে বসেছি।

তাদের অনুমতি ছাড়া কি আমরা এটা করতে পারি! এটি ঐতিহ্যবাহী হাট। অনেক বছর ধরে এই হাট কলেজ মাঠে বসে আসছে। এটা অস্থায়ী হাট। আমাদের দেশে স্কুল কলেজের মাঠে অস্থায়ী হাট বসে। ” যোগ করেন এই ছাত্রদল নেতা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর বৈধতা প্রশ্নে ছাত্রদল নেতা বলেন, এটা সারাজীবন হয়ে আসছে।

তবে ছাত্রদল নেতার এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘ তারা আবেদন করেছিল। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কোনো অনুমোদন দেইনি। অধ্যক্ষ গেইট তালা দিয়ে রাখছে। সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। আমি বিষয়টি দেখার জন্য ইউএনওকে বলেছি।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন