

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের ঘুনী-বানিয়ারগাতী-পদ্মবিলা আঞ্চলিক কার্যালয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে যশোর সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে ৯১৮ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২০ মে) ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের সভাপতি হায়দুল ইসলাম লালটু। এর আগে একই অভিযোগে তাকে একবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঘুনী-বানিয়ারগাতী-পদ্মবিলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সভাপতি-সম্পাদকসহ একাধিক সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন যে, আনোয়ার হোসেন বহিরাগত লোকজন নিয়ে বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দিলে অফিস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, ঘুনী-বানিয়ারগাতী-পদ্মবিলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সভাপতি মোঃ জামাল হোসেন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলেন, “আমি বর্তমান সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। অথচ সহ-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা দিতে না পারলে অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাফর বলেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ বলেন, “আমাদের মন্ত্রী মহোদয় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্দেশ রয়েছে, কোনো চাঁদাবাজকে দলে রাখা যাবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যশোর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যশোর জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মোঃ জাফর বলেন, “আমাদের নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্দেশ মোতাবেক সংগঠনে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। ঘটনা সত্য হলে উপযুক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যশোর জেলা ট্রাক-লরি-ট্রাক্টর-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হায়দুল ইসলাম লালটু বলেন, “এর আগেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বুধবার দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব না পেলে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”