

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন কামারশালায় এখন চলছে দম ফেলার ফুরসতহীন ব্যস্ততা। টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার ছেংগারচর, সুজাতপুর, নতুন বাজার, কালির বাজার ও নন্দলালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কামারপল্লি। সারা বছর কাজের মন্দাভাব থাকলেও কুরবানির ঈদকে ঘিরে এখন জমে উঠেছে ছুরি, দা, চাপাতি ও বঁটিসহ পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম তৈরির ও শান দেওয়ার ধুম।
বুধবার (২০ মে) সরেজমিনে ছেংগারচর বাজার, সুজাতপুর বাজার, নতুন বাজারে দেখা যায়, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের লেলিহান শিখা আর হাতুড়ির আঘাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কেউ পুরনো ছুরি ও চাপাতিতে শান দিচ্ছেন, কেউবা নতুন ধারালো অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত। অনেক কামার জানান, কাজের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে নতুন অর্ডার নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন। ফলে কামারদের আয়-রোজগারের অন্যতম প্রধান সময় এখন। বছরের অন্য সময় কৃষিকাজের সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের কাজ করলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে সে কাজও কমে গেছে বলে জানান তারা।
সুজাতপুর বাজারের কামার রতন কুমার দাস বলেন, আমি প্রায় ২৭ বছর ধরে কামারের কাজ করছি। আগে কৃষিকাজের হাঁসুয়া, কাস্তে, কোদাল, কুড়াল তৈরির কাজ বেশি ছিল। এখন আধুনিক মেশিন আসায় সেই কাজ কমে গেছে। কুরবানির ঈদ এলেই কাজের চাপ বাড়ে। এই সময়ের আয় দিয়েই সারা বছরের সংসার চালাতে হয়।
ছেংগারচর বাজারের বিশু দাস, কার্তিক বলেন, ছোট ছুরি থেকে বড় চাপাতি পর্যন্ত শান দিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। নতুন দা, ছুরি ও চাপাতি ৫৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো কুরবানির পশু জবাই ছাড়াও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই পেশায় অনেক মানুষ যুক্ত থাকলেও এখন কাজের অভাবে অনেকে পেশা বদল করেছেন। তবে ঈদের মৌসুম এলেই আবার অনেক মৌসুমি কামার কাজে নেমে পড়েন।
কামারদের আশা, কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা এই মৌসুমি ব্যস্ততা তাদের সংসারে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।