বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীর বাড়িতে শিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ, নেপথ্যে উঠে এলো রোমহর্ষক তথ্য

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১১:১১ এএম
মরিয়ম বেগম (৫৫)
expand
মরিয়ম বেগম (৫৫)

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মরিয়ম বেগম (৫৫) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার (অধিরল্যাংড়ার মোড়) এক শিক্ষার্থীর বাড়ি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, স্রেফ স্বর্ণের কানের দুলের লোভেই ওই শিক্ষিকাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থীর বাবা মো. রুবেল ও তার স্ত্রী সুমি খাতুন এবং তাদের সহযোগিতাকারী স্বর্ণকার দীপককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) সকালে মরিয়ম বেগম চৌকাপাড়ার বাসিন্দা মো. রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে যান। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে সারাদিন পার হলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি।

মরিয়ম বেগমের ছেলে মারুফ হোসেন বনি জানান, রাতে মাকে খুঁজে না পেয়ে তিনি রুবেলের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় রুবেল ও সুমি তাকে জানান, প্রাইভেট পড়ানো শেষ করেই তার মা সেখান থেকে চলে গেছেন।

এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মায়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতেই মরিয়ম বেগমের এক সন্তান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোন পেয়ে পুলিশ চৌকাপাড়ার ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, মূলত প্রধান অভিযুক্ত রুবেল নিজেই বাঁচার কৌশলে ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুবেল ও সুমি দম্পতির বাড়ি থেকেই মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া নিহতের কানের দুল পরার অংশটি ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় কানের দুল জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছিল।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, মরিয়মের স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রুবেল ও সুমিকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুমি খাতুন সোমবারই মরিয়মের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণের দুটি দুল এক স্বর্ণকারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে পুলিশ সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দীপক নামে ওই স্বর্ণকারের কাছ থেকে মরিয়মের কানের দুল দুটি উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই স্বর্ণকারকেও আটক করে।

পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ দুজনেই নিশ্চিত করেছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন