বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখাউড়ায় ক্রেতাদের পছন্দ মাঝারি গরু

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। সাপ্তাহিক পশুর হাটে গরু,ছাগল ও মহিষ উঠেছে চোখে পড়ার মত। চলছে কেনা বেচা। এবার হাটে ক্রেতাদের পছন্দ বেশী ছোট ও মাঝারি আকারের গরু। এসব গরু বিক্রি হচ্ছে বেশী। তবে কিছু বড় গরু উঠলে ও ক্রেতারা দরদাম বলে চলে যাচ্ছে।

বিক্রেতারা জানায়, পশুর হাটে ছোট বড় মাঝারি আকারের ভালো পশু উঠেছে। এরমধ্যে ছোট ও মাঝারি গরু ভালো বিক্রি হচ্ছে। আশা করছেন শেষ মুহুর্তে গরু বিক্রি বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পৌর শহরের কলেজ পাড়া পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় লাল, কালো, সাদা নানা রঙের গরু,মহিষ,ছাগল উঠেছে। তবে এই হাটে ক্রেতা থেকে তুলনামূলক পশু রয়েছে দ্বিগুন। ফলে স্বস্তিতে পশু ক্রয় করছেন ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায় এখানে ছোট আকারের একটি গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার, মাঝারি সাইজের গরু ১লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার উপর বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশী বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতারা জানায়।

গরু ব্যবসায়ী মো. মো: কাশেম মিয়া বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গরু লালন পালন করছি। এই কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ছোটবড় ৩০ টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে হাটে ৮টি গরু নিয়ে এসেছি। ইতিমধ্যে ২টি গরু ১লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তিনি বলেন বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর ভালো চাহিদা রয়েছে। মানুষ দরদাম করছে। আশা করছি ঈদের আগেই বাকি গরুগুলো বিক্রি হবে।

বিজয়নগরের দুলাল মিয়া বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় গাড়িতে করে ১৫ টি গরু নিয়ে আসি। দুপুরের মধ্যে ২ টি গরু বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ চেষ্টায় আছি স্বল্প লাভে গরুগুলো বিক্রি করতে। কারণ গো-খাদ্যের দাম বেশী, এক হাট থেকে অন্য হাটে যেতে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ অনেক হয়। তা না হলে লোকসান গুনতে হবে।

ক্রেতা মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, সাপ্তাহিক এই হাটে তুলনামূলক ভাল গরু উঠেছে। গরুর দরদাম নিয়ে এক প্রকার চিন্তিত ছিলাম। অবশেষে বাজার ঘুরে মাঝারি আকারের একটি গরু ১লাখ ২ হাজার টাকায় কেনা হয়।

মো: ফারুক মিয়া বলেন, প্রতি বছর শেষ মুহর্তে গরু নিয়ে টানাটানি থাকে। তাই সাপ্তাহিক হাটে আসলাম। আমাদের ইচ্ছে হলো মাঝারি আকারের গরু। অনেক গরু দেখছি। কিন্তু দাম বেশী মনে হচ্ছে।

সারোয়ার আলম বলেন, শেষ মুহর্তে গরু কেনা কষ্ট হয়ে যায়। তাই আগেবাগে পশুর হাটে এসেছি। বেশ কয়েকটি গরু দেখে মাঝারি আকারের একটি গরু ৯০ হাজার টাকায় কেনা হয়। গত বছর শেষ মুহুর্তে এই আকারের গরু ১লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। তাই এবার আগেবাগেই কেনা হয়।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: ইমরান বলেন, এ উপজেলার কৃষক ও খামারিরা দেশিয় পদ্ধতিতে যতœনিয়ে গরু লালন পালন করছেন। পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা খামারগুলোতে পর্যবেক্ষক করা হচ্ছে। খামারিদেরকে ক্ষতিকারক ওষধ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি গোপনে এই অসাধু প্রক্রিয়া করে থাকে তাহলে অবশ্যই পশুখাদ্য আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন এ বছর পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৭৭৯ টি খামারে ৫৬৪৩ টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে গরু ৪১৯২টি মহিষ ১৫৫টি, ছাগল ৭৫১ ও ভেড়া ৫৪৫ টি রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন