বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার ভূমি অফিসে স্বজনপ্রীতির মহোৎসব, এক পরিবারের দখলে পাঁচ পদ 

জুলফিকার আলী ভুট্টো, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

কক্সবাজার জেলার ভূমি অফিসগুলোতে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেটের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নিয়ে সরকারি চাকরিতে ঢোকার পর এই চক্রটি পুরো জেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে জেলার সাধারণ ভূমি সেবা প্রত্যাশীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এমএলএসএস নাজমুল এই সিন্ডিকেটের মূল সমন্বয়ক। তার পরিবারের আরও চার সদস্য জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। চক্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- নাজমুলের বোন খালেদা বেগম (চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা), আরেক বোন কোহিনুর আক্তার (চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা), কোহিনূরের স্বামী ছৈয়দ নুর (কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা), নাজমুলের ভায়েরা-ভাই ইকবাল হোসেন (চকরিয়া চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমএলএসএস)।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চক্রটি সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে না। বিশেষ করে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর একই এলাকায় (চিরিংগা) পোস্টিং নিশ্চিত করেছেন। ওপর মহলের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই তারা নিজেদের পছন্দের স্থানে পদায়ন বজায় রাখেন।

ভূমি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই পাঁচ জনের সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো ফাইল নড়ে না। ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া অসম্ভব, আর প্রতিবাদ করলে নেমে আসে বদলি বা হয়রানির খড়্গ।”

এদিকে, ভূমি সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা খালেদা বেগম।

মঙ্গলবার (১৯ মে) চকরিয়া ভূমিসেবা মেলায় একজন সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি ভূমিসেবা মেলাকে "ভূমি ছেঁদা মেলা ও নিজেকে কর্মকর্তা নয় কর্ম-কুত্তা" বলে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব জানান, ঘটনা জানার পরপরই খালেদা বেগমকে তার বর্তমান ডেস্ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে এ ধরনের ভাষা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, কেবল শোকজ বা বদলি নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই স্বজনপ্রীতির চক্রটি ভেঙে দেওয়া জরুরি। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা আরও গভীরে প্রোথিত হবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন