

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিমরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগর উপজেলার নূরপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বিশেষ করে বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মাণাধীন ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ধীরগতিতে চলায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি আঞ্চলিক সড়ক’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮ থেকে ২৪ ফুট।
২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ডলি কনস্ট্রাকশন ও ইনফ্রাটেক যৌথভাবে ৩৯ কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ২০১৮ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
বোয়ালিয়া খালের ওপর ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর নির্মাণকাজ পান ঠিকাদার খায়রুল হাসান। ২০২৩ সালের শেষদিকে শুরু হওয়া এ কাজ ২০২৫ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে সেতুর পিলার ও সংযোগ প্রাচীরের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে, তবে বৃষ্টির কারণে সেতু সংলগ্ন কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন কাদায় আটকে যাচ্ছে। অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে পার হতে হচ্ছে।
পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমুড়ার বাসিন্দা সোলমান মিয়া বলেন, ‘দুই বছর ধরে সেতুর কাজ পড়ে ছিল। এখন কাজ শুরু হলেও গতি খুবই ধীর। দশ কিলোমিটার রাস্তা বানাতে ১০ বছর লাগলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?’
শান্তামুড়া গ্রামের রফিক মিয়া বলেন, ‘এই সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সঙ্গে বিজয়নগরের দূরত্ব ও সময় দুটোই কমবে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে মানুষ এখনও ভোগান্তি পোহাচ্ছে।’
ঠিকাদার খায়রুল হাসান বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে এবং কোরবানির ঈদের আগেই সেতুর কাজ শেষ করার আশা করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতু নির্মানের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমানে কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।