

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে পড়ে টানা সাত দিন শিকলবন্দি থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। শুক্রবার ভোর রাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন, শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের রুবেল হাওলাদার (৩০), ছগির (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), পাথরঘাটা এলাকার রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।
বাড়ি ফেরা জেলেরা জানান, গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে। পরে পায়ে শিকল বেঁধে সুন্দরবনের অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রাখা হয়।
জেলেরা আরও জানান, অপহরণের তিন দিন পর প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক দস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছ থেকে জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাদের আবারও অন্য একটি স্থানে আটকে রাখে।
ফিরে আসা জেলে রুবেল হাওলাদার বলেন, আমাদের অপহরণের পর জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা বেদম মারধর করেছে। পরে শরীফ বাহিনী আমাদের নিয়ে যায়। দীর্ঘদিন আতঙ্ক ও নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাজন জানান, প্রথমে দস্যুরা জনপ্রতি এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দর কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হলে জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও বিপদে পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো, শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।