

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম বিষ্ণু কার্বারী পাড়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শতাধিক পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষের জন্য নেই কোনো টিউবওয়েল বা নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়ে পাহাড়ের ছড়া ও ঝিঁড়ির পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ তথা স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
বনাঞ্চল উজাড়, অপরিকল্পিত জুম চাষ, ঝিরি-ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়া এবং পাথর উত্তোলনের ফলে পানির প্রধান উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। নারী ও শিশুরা মাইলকে মাইল হেঁটে পাহাড়ের ঝিরি বা নোংরা কূয়োর পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। এতে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন পুরো পাড়ার মানুষকে নির্ভর করতে হয় একটি মাত্র কুয়োর ওপর, যেখানে খুব ধীরগতিতে পানি ওঠে। এক কলস পানি তুলতে সময় লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। পানির অভাবে ছড়ার অপরিশোধিত পানি পান করার ফলে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পাড়ার বাসিন্দারা। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
পাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা পানির সংকট। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যয় করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। দ্রুত একটি টিউবওয়েল স্থাপনসহ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির উৎসের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মেকানিক মো. আব্দুল্লাহ খান বলেন, পাথুরে পাহাড় ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে টিউবওয়েল স্থাপন কিছুটা কঠিন। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, উপজেলার কয়েকটি দুর্গম পাড়ায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিভিন্ন পাড়া থেকে আবেদন পাওয়া গেছে। গত বছর বাজেট না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ বছর বাজেট পেলে যেসব পাড়ায় টিউবওয়েল নেই, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্গম পাহাড়ের এই জনপদে কবে নাগাদ নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, সেই প্রত্যাশায় দিন গুনছেন বিষ্ণু কার্বারী পাড়ার শতাধিক পরিবার। একই চিত্র জেলার পানছড়ি, লক্ষীছড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার।
এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার দ্রুত সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি উদ্যোগের জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন