বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে তান্ডব

পেকুয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ পিএম
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে পেকুয়ায় ব্যাপক তান্ডবে ৪০টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
expand
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে পেকুয়ায় ব্যাপক তান্ডবে ৪০টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

কক্সবাজারের পেকুয়ায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বহু পরিবারের।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি ও বাতাস।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, পেকুয়া উপজেলার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজার, চৌমুহনী স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের চালা উড়ে যায়। পেকুয়া বাজারস্থ পশু বাজারের অস্থায়ী সেট ভেঙে ব্যবসায়ীদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মগনামা ইউনিয়নে চল্লিশ বসতঘর, উজানটিয়ায় তিনটি ও রাজাখালীর উপকূলীয় এলাকাতেও ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।

অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হন মগনামা ইউনিয়নের মহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ছাদেক। এসময় তার বসতঘর ও গোয়ালঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কান্না জড়িত কণ্ঠে ছাদেক বলেন, “এক ঝড়েই শেষ আমার সবকিছু। ঘর নাই, গোয়ালঘর নাই, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো জানি না। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নাই।”

জানা গেছে, ছাদেক মৃত আবদুল মাবুদের ছেলে। চার সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন এবং লবণচাষে লোকসানে ছিলেন। এরই মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ে তার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে তিনি আরও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে এবং তাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মহুরীপাড়ার ছাদেক, সাতঘর পাড়ার হাজেরা বেগম, ছগিরের বাড়ি ও পাখি বেগমসহ অনেকে।

তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন