

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের এক যুগ পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল)। দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই সাত খুনের মামলার রায় এখনও কার্যকর হয়নি। বিচারপ্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতায় হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী চন্দনের গাড়িচালক ইব্রাহিমকে। ঘটনার তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মরদেহ ভেসে উঠলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটির রায়ে র্যাব কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকলেও তা এখন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে ‘লিভ টু আপিল’ কার্যক্রমে আটকে আছে।
এদিকে দীর্ঘ সময়েও রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ভুক্তভোগী স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, বহু আলোচিত একটি ঘটনায় দণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরও কার্যকর না হওয়ায় বিচারপ্রাপ্তির অনুভূতি অধরাই থেকে যাচ্ছে।
খুন হওয়ার এক মাস পর পৃথিবীর আলো দেখেন গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তার কাছে বাবা মানে কেবল ছবিতে দেখা একজন মানুষ। মা শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে চাকরি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে। নুপুরের সীমিত আয়ে চলছে সংসার। তিনি বলেন, মেয়ের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রায়ই অসহায় বোধ করেন।
বর্তমানে শশুড়বাড়ির একটি ঘরে বসবাস নুপুরের। সন্তানকে পড়াচ্ছেন একটি স্থানীয় মাদরাসায়। নুপুর বলেন, ‘আমার মেয়ে তো জন্মের পর থেকে বাবাকে দেখেনি। মাদ্রাসায় অন্যদের বাবাকে দেখলে তার মনেও খুব কষ্ট হয়, বাসায় এসে কান্নাকাটি করে। কিন্তু তার বাবাকে যারা নির্মমভাবে খুন করলো, মেয়েটাকে এতিম করলো, তাদের কোনো শাস্তি এখনো দেখলাম না। এই শাস্তি কবে নিজের চোখে দেখতে পাবো, তাও জানি না।’
একইভাবে, রায় কার্যকরের দীর্ঘসূত্রতায় আসামিরা শাস্তি পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বিউটি।
তিনি বলেন, ‘সবকিছু চাক্ষুস প্রমাণিত, এখানে তো কোনো লুকোচুরি নাই। ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বলছিলেন, তারা সরকারে আসলে বিচারটি করবেন। এখন আমরা সেই আশায় আছি।’
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা উচ্চ আদালতে যান। পরে ২০১৮ সালে উচ্চ আদালত ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্যদের সাজা কমান। এরপর আপিলের পর্ব শুরু হলেও এখনো মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, নিহত নজরুল ইসলামের সঙ্গে দন্ডিত নূর হোসেনের পুরোনো দ্বন্দ্ব ছিল। দু’জনই ছিলেন নাসিকের কাউন্সিলর। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব পরে লোমহর্ষক সাতখুনের ঘটনায় রূপ নেয়। ঘটনার দিন আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে ফিরছিলেন নজরুল। যদিও তার বাড়ি ফেরা আর হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, ‘আপিল বিভাগেও মামলাটি নিষ্পপ্তি হয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে ‘লিভ টু আপিল’ প্রসিডিংসে আটকে আছে বিষয়টি। এই কার্যক্রমে যদিও সময় লাগে, কিন্তু এক্ষেত্রে বেশি লাগছে। আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুতই, এটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছি।’
মন্তব্য করুন