

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে,১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিদর্শকদের অবহিত করলেও প্রথমে তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। বরং পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
তবে নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টার বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরীক্ষা শেষে তারা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সবাই নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন,একজন পরীক্ষার্থীর জন্য প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এক ঘণ্টার ক্ষতির বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী জানান,প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়েছে। তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন,পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এ ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন