

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের চরমাধবদী এলাকায় এক সন্তানের জননী গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার (৩৫)–কে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এ ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত মাহমুদা আক্তার পলাশ উপজেলার বারারচর এলাকার মজিবুর রহমানের মেয়ে এবং চরমাধবদী এলাকার বাবুল মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী বাবুল মিয়া, শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি ও ননদসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনে মাহমুদা ও বাবুল দম্পতির একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অভাব-অনটনকে কেন্দ্র করে স্বামী বাবুল মিয়া নিয়মিত মাহমুদার উপর নির্যাতন চালাতেন।
রবিবার দুপুরে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর মাহমুদা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তার পরিবারের কাছে ফোনে জানানো হয়। পরে তার ভাতিজা গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে সেবাযত্ন করেন। সে সময় কিছুটা সুস্থতা ফিরে পেলে তিনি ফিরে আসেন। তবে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ মাহমুদার ছেলে ভিডিও কলে তার বড় ভাই জালাল আহমেদকে জানান, মাহমুদা মারা গেছেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদার শরীরে একাধিক নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান। কিন্তু তখন বাড়িতে স্বামীসহ পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নিহত মাহমুদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ করতেন। অভিযুক্ত স্বামী বাবুল মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে—এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি হত্যাকন্ড।
মন্তব্য করুন