

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষাধীন থাকতে থাকতে শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসার পর অবশেষে তিন বছর ধরে খালি পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘আমরা তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্য সেবাগুলোও চালু হবে।’
প্রায় আট বছর আগে নগরের বন্ধগেট এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন বছর আগেই এর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি বুঝে না নেওয়ায় সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।
শিশু হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ প্রচণ্ড। রাজশাহী ছাড়াও রংপুর ও খুলনা বিভাগের শিশুরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। হাসপাতালের ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় ৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় কর্তৃপক্ষ। রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা আছে। এই শয্যার জন্য সব সময় দীর্ঘ লাইন থাকে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর ডাক পড়ে।
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে অন্যান্য অসুখের পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে এখন আবার শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কেননা, নবনির্মিত শিশু হাসপাতালেও ১২টি আইসিইউ বেড থাকার কথা।
আজ রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালটি আংশিক চালু করা হবে বলে জানান। এ ছাড়া সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান সচিব।
মন্তব্য করুন