

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় শেফালী আক্তার (৫৮) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এই দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বাদী শেফালী আক্তার নিহত সোহেল রানার খালা। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাসিন্দা সোহেল রানা (৪৬) এই দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের একজন। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন পুরুষ, ২ নারী ও ৩ শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ছিল চরম। সংঘর্ষের পর বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায় এবং প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অবহেলাই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ইতিমধ্যে ঘটনাটি তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি মো. হেলাল পদুয়ার বাজার রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অপর আসামি মেহেদী হাসান ওই ক্রসিংয়ের ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে ঘটনার পর থেকেই তাঁরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন খন্দকার বলেন, ১২ জন নিহতের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পুরো ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন