রবিবার
২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ২

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ০১:০৩ এএম
বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ
expand
বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদের দিন স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে পূর্বের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে দুপুরের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে ছত্রপাড়ার মৃত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম কাজি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ বলছেন, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।

এ ঘটনায় কুবির কাজি গ্রুপের কয়েকজন আহত হন, আহতদের মধ্যে ছত্রপাড়ার মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে কুবির কাজি ও নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজির অবস্থা গুরুতর ছিল। শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির জাহাঙ্গীর গ্রুপ স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সশরীরে উপস্থিত থেকে হামলায় অংশ নেন।

এলাকাবাসী জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। ভোট নিয়ে পূর্ব বিরোধের ধারাবাহিকতায় ঈদের দিন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অপরদিকে ফেসবুক পোষ্টকে কেন্দ্র করে ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে থেকে শনিবার দুপুর ১২ টার সময় সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত ও আওয়ামীলীগের কয়েকজন আহত হন।

এদিকে আহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানান, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন।

তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি ইসরাইল পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ছত্রপাড়া এলাকায় হিন্দুদের অনেক সম্পত্তি ছিল। ঐ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মারামারি । চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন ও আরো কয়েকজন আহত আছেন।

ঘটনাস্থল থেকে দূরে মারামারির সংবাদ শুনে নাতির ওপর হামলার ঘটনায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় কারা কারা জড়িত তদন্ত করছি। ভিকটিভের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করে হলে পরবর্তীতে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন