

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয় চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পোস্টে তিনি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, চৌমুহনী এলাকার সোনাই নদী থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চমানের সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করছে।
তিনি দাবি করেন, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী এবং চৌমুহনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের জালাল। পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। ফলে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে।
অভিযুক্ত পারভেজ হোসেন চৌধুরী মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও একজন ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি একটি বালুমহালের বৈধ ইজারাদার বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পারভেজ হোসেন চৌধুরী ও আবু নাসের জালাল উভয়েই বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তারা এ সম্পর্কে কিছু জানেন না।
সাবেক ছাত্রদল নেতা ও সাংবাদিক হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি এবং করে যাব। দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন এলে তার জবাবও আমার কাছে রয়েছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’
এদিকে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন কাছেদ বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে যে কেউ সমালোচনা করতে পারে। তবে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ফেসবুকে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন