শনিবার
০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
expand
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

বরগুনার তালতলীতে কৌতুকের দাবিতে দুই সন্তানের জননী আছিয়া বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ফরহাদ হোসেন পহলান (৩০) এর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ হোসেন একই এলাকার আব্দুর রব পহলানের ছেলে এবং নিহত গৃহবধূ আছিয়া বেগম একই ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামের মজিবর জোমাদ্দারের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ বছর আগে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া গ্রামের আব্দুর রব পহলানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামের মজিবর জোমাদ্দারের মেয়ে আছিয়া বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফরহাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা গৃহবধূ আছিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। কিন্তু আছিয়ার পরিবার বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে টাকা দিলেও সবশেষে গতকাল শুক্রবার রাতে ফের যৌতুকের দাবি করে মারধর করার একপর্যায়ে মারা যায়। পরে তাকে অপমৃত্যু বলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন শশুর বাড়ির লোকজন।

এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তরা পালাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জোমাদ্দার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার মেয়ের বিয়ের পর থেকেই ফরহাদ হোসেন ও তার পরিবার যৌতুকের দাবি করেন। আমি বিভিন্ন সময়ে কয়েক লাখ টাকা জামাইকে দিয়েছি এবং একবার প্রবাসে পাঠিয়েছি। কিন্তু গতকাল রাতে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।'

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান বলেন, গতকাল রাতেই নিহতের মরাদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন