

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকার হাতে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত প্রসূতির নাম সবজান (২৫)। তিনি চরবংশী খাসেরহাট-চমকাবাজার এলাকার মোল্লাবাড়ির দিনমজুর সুমন মাঝির স্ত্রী। এঘটনায় নিহতের মা ও স্বজনের আহাজারি বাতাস ভাড়িহয়ে উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় উপজেলার উত্তর চরবংশি ইউপির খাসেরহাট বাজারের পাশে চরবংশি পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এপ্রসব করান পরিদর্শিকা নাঈমা তাহসিন ইভা। ওইনারীর আরও দুই শিশু সন্তান রয়েছে। নবজাতক শিশুটি তার আপন মামির দুধ পান করছে এবং সুস্থ্য রয়েছে। ওই নারীকে বিকালে পারিবারিক কবরস্থানেদাফনকরা হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, সকাল ১১টায় প্রসব বেদনা বেড়ে যাওয়ায় চরবংশী পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে বাচ্চা প্রসব হলে রক্তক্ষরন হতে থাকে এবং তিনঘন্টা অবস্থান করে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ স্থানান্তর করা হয়।
নিহতের মা ও ভাবি বলেন, আমরা গটনার সময় চাঁদপুর ছিলাম। পরিদর্শিকা কোন প্রস্তুতি না নিয়েই (ওষুধ ও রক্ত) প্রসব ব্যাবস্থা করে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
তবে পরিদর্শিকা নাঈমা তাহসিন ইভা বলেন, আমার ভুল হয়েছে, বাচ্চা প্রসব হওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরন বন্ধে হাসপাতালে পাঠানো দরকার ছিলো নারীকে। আমার কাছে রেপার করা কোন কাগজপত্রও নাই। আমি আর কখনও গর্ববতি নারীদের প্রসব করাবোনা।।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারী মারা যান।পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, স্বজনদের অভিযোগ—প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা ও দ্রুত সরকারি হাসপাতালে না পাঠানোর কারণে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান বাবলু বলেন, বিষয়টি বিকালে শুনেছি। প্রশিক্ষনে রয়েছি। চট্রগ্রাম থেকে রায়পুরে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিব।
মন্তব্য করুন